শেরপুরে প্রকল্পের টাকা ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কর্মকর্তা
সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে কাটাখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের পর বরাদ্দের অবিশিষ্ট অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে উদ্বৃত্ত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা ফেরত দিয়ে সততা ও স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক। এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে 'অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি' (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় শেরপুরের কাটাখালী খালের ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই প্রকল্পটির জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। গত ১৩ মে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এই খননকাজের উদ্বোধন করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা গত ১৩ আগস্ট সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। খালের দুই পাশে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ প্রায় ১ হাজার ৬০০টি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের যাতায়াত ও সেচ সুবিধা বাড়াতে ১৬০টি রিং কালভার্ট, তিনটি কাঠের সেতু এবং তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।
শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রকিবুল হাসান জানান, প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন স্থানীয় অতিদরিদ্র শ্রমিক এ প্রকল্পে কাজ করেছেন। এতে যেমন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি দীর্ঘদিনের ভরাট খালটি সচল হওয়ায় স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যখাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু অংশ শিগগিরই সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন প্রকল্পটির সফল সমাপ্তি ও অর্থ সাশ্রয়ের প্রশংসা করে বলেন, এটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বর্তমানে খালে পানি থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকা চলাচল এবং পর্যাপ্ত দেশি মাছ শিকারের সুবিধা পাচ্ছেন, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে