মোংলাকে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়েও শক্তিশালী করার মহাপরিকল্পনায় কি কি আছে
সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় মোংলা বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ পরিদর্শনে এসেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। এই পরিদর্শনে মোংলা বন্দরের আকরাম পয়েন্টে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরকেও ছাড়িয়ে যাবে মোংলা।
নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি খাত ও মোংলা বন্দরের সার্বিক অগ্রগতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বর্তমান সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোংলা বন্দরের আকরাম পয়েন্টের সন্নিকটে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই টার্মিনাল দুটি থেকে ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে মোংলা, বাগেরহাট ও খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
রবিবার দুপুরে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল মোংলা বন্দরের বিভিন্ন চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে প্রতিনিধিদলটি আকরাম পয়েন্ট, মোংলা বন্দর জেটি, ইপিজেড এবং স্থানীয় ইকোনমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
নৌমন্ত্রী জানান, মোংলা বন্দরকে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক ও শিল্প হাবে রূপান্তর করার কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মোংলা বন্দরে নতুন জেটি নির্মাণের জন্য চীন সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, যার নির্মাণকাজ আগামী ১৮ মাসের মধ্যে শেষ হবে। এছাড়া নদী পারাপারের জন্য নতুন ব্রিজ নির্মাণ ও বন্দর থেকে একটি দৃষ্টিনন্দন চার লেনের সড়ক তৈরি করা হবে। প্রকল্প প্রস্তাবনা পাওয়ার দুই মাসের মধ্যেই এই ফোর-লেন সড়কের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
শিল্পায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে প্রথম ধাপে ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পরবর্তীতে এখানে বিভিন্ন ভারী শিল্প ও মিল-কারখানা প্রতিষ্ঠিত হলে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের স্থায়ী আয়ের পথ সুগম হবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির এবং বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। বন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে বিকেলে পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগ দেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
২৯০ বার পড়া হয়েছে