Latest

Country

জাফলংয়ে পর্যটনের আড়ালে চোরাচালান, নেপথ্যে মান্নান-লোকমান সিন্ডিকেট

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটের জাফলং এখন চোরাচালান ও চাঁদাবাজির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মান্নান মেম্বার ও তাঁর ভাই লোকমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এখানে প্রকাশ্যে ভারতীয় অবৈধ পণ্যের রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এড়িয়ে সীমান্ত এলাকায় গড়ে ওঠা এই অবৈধ সাম্রাজ্য বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকায় এখন পর্যটকদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের চেয়ে ভারতীয় পণ্য কেনার দৃশ্যই বেশি চোখে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজিবি ক্যাম্পের একদম কাছাকাছি প্রকাশ্যেই বসছে ভারতীয় কম্বলসহ নানা অবৈধ পণ্যের হাট। রাজধানী ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা এমন চিত্র দেখে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাফলং সীমান্তের অন্তত ২৫টি পয়েন্ট বর্তমানে একটি বিশেষ চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান ওরফে মান্নান মেম্বার এবং তাঁর ভাই লোকমান হোসেন এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা নিজেদের প্রশাসনের বিভিন্ন শাখার ‘লাইনম্যান’ পরিচয় দিয়ে এই বিশাল সীমান্ত বাণিজ্য পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সীমান্তবর্তী নলজুরি ও বল্লাঘাট এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে আসা ৬০ থেকে ৭০টিরও বেশি কাঁচা মরিচ ও টমেটোবাহী যান থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করা হয়। এছাড়া ভারতীয় জিরা, চকলেট, কসমেটিকস ও চিনি সীমান্ত পার করার সময় প্রতি বস্তা বা প্যাকেট বাবদ নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিতে হয় এই সিন্ডিকেটকে। এসব চোরাই পণ্য পরবর্তীতে সীমান্ত সংলগ্ন গোপন গুদামে মজুত করা হয়।

অভিযুক্তদের রাজনৈতিক রূপান্তরের ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে তাঁরা নিজেদের খোলস বদলে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে বা সংবাদ প্রকাশ করলে মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এই বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল জানিয়েছেন, পুলিশের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজির সুযোগ নেই। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মৌখিক আশ্বাসের চেয়ে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত যৌথ অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।

১৫৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন