২-৩ বছরেই প্রাথমিক শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন আসছে: ববি হাজ্জাজ
সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও গুণগত আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ময়মনসিংহে আয়োজিত এক বিভাগীয় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান করিরূপে তিনি সরকারের এই মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল ও আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ময়মনসিংহের নেপ মিলনায়তনে বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এই পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সরকার প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে সিলেট বিভাগে এ ধরনের কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের বাকি ছয়টি বিভাগেও পর্যায়ক্রমে তা আয়োজন করা হবে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষকদের গুণগত প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুল ব্যাগ প্রদানের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করা নয়, বরং বিদ্যালয়গুলোকে আধুনিক ও নিরাপদ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করা। সরকারি বিদ্যালয়গুলোকে প্রতিটি এলাকার আলোকবর্তিকা বা ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে প্রশাসন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী দিনে প্রাথমিক শিক্ষার ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্পিকিং টেস্ট চালু করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলে প্রতিটি শিশুর জন্য ইউনিক আইডি প্রদান করা হবে। স্কুল ভবনের অভ্যন্তরে আধুনিক ও নিরাপদ ওয়াশ ব্লক স্থাপনেরও বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বিদ্যালয় রক্ষায় স্থানীয়দের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণত মসজিদে চুরির ঘটনা ঘটে না কারণ মানুষ মসজিদকে নিজের প্রতিষ্ঠান ভাবে। একইভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেও স্থানীয় জনগণ ও অভিভাবকদের নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধারণ করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ময়মনসিংহ বিভাগের উপপরিচালকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পিটিআই সুপারগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন।
১১১ বার পড়া হয়েছে