Latest

International

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭, ২৩০টির বেশি আফটারশক

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৫৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলের কাছে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দিনভর ২৩০টির বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৬.২।

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের (USGS) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এনদে শহরের প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।

ভূমিকম্পের পর শনিবার দিনভর ফ্লোরেস দ্বীপে ২৩০টির বেশি আফটারশক অনুভূত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী আফটারশকটির মাত্রা ছিল ৬.২। শক্তিশালী মূল ভূমিকম্প ও পরবর্তী কম্পনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুহারিয়ান্তো জানান, ভূমিকম্পে অন্তত ১৫৭টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। আরও প্রায় ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাগেওকে রিজেন্সির প্রায় ২ হাজার গ্রামবাসী নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাড়িঘর ছেড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

পুলিশের পূর্ব নুসা তেঙ্গারা শাখার প্রধান রুদি দার্মোকো জানান, ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।

তালিবুরা গ্রামের ৫১ বছর বয়সী বাসিন্দা নোনা রয়টার্সকে বলেন, ভূমিকম্পের সময় তাঁরা পরিবারের ১৩ জন বাড়ির ভেতরে ছিলেন। কম্পন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে জীবন বাঁচাতে সবাই দ্রুত বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যান।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে তিনটি হেলিকপ্টার ও একটি উদ্ধারকারী জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে এগুলো ব্যবহার করে দুর্গত এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তবে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা বহু দ্বীপ নিয়ে গঠিত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এবং উদ্ধার তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে বন্দর শহরের স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাতুর রহমান জানান, ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসের কারণে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারী দল এখনো নাগেওকে রিজেন্সির দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে পারেনি। যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। একটি উদ্ধারকারী দল ফেরিতে করে ওই এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে শনিবার ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় সুমাত্রা দ্বীপেও ৬.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৭২.৫ কিলোমিটার গভীরে। গভীরতা বেশি হওয়ায় এতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সুমাত্রার ভূমিকম্পটি ফ্লোরেস দ্বীপের ভূমিকম্পস্থল থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে।

ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণকর্মীরা দুর্গত এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান এগিয়ে গেলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ফ্লোরেসের একই উপকূলীয় অঞ্চলে ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে ফ্লোরেসে ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

১৫৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
International নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন