Latest

Country

সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে সাতক্ষীরার প্রাচীন শ্যামসুন্দর মন্দির

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা
স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অবস্থিত প্রায় চারশত বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপত্য সোনাবাড়িয়া মঠ আজ চরম অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অপূর্ব টেরাকোটা শৈলীর অনন্য নিদর্শন এই শ্যামসুন্দর মন্দিরটি দ্রুত সংরক্ষণ করা না হলে হারিয়ে যাবে কালের গর্ভে। ঐতিহাসিক এই পুরাকীর্তিটি রক্ষায় এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে সরকারি উদ্যোগ।

সাতক্ষীরা জেলা সদর থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস ও স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ‘শ্যামসুন্দর নবরত্ন মন্দির’। স্থানীয়ভাবে এটি ‘সোনাবাড়িয়া মঠ’ নামেও ব্যাপকভাবে পরিচিত। ৬০ ফুট উচ্চতা এবং ৩৩ ফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের এই ত্রিতল মঠটি একসময় টেরাকোটা বা পোড়ামাটির সূক্ষ্ম কারুকাজে সজ্জিত ছিল, যা কালের বিবর্তনে এখন ক্ষয়িষ্ণু।

লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে যে, হিন্দু ধর্মগুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এই মন্দিরে এসে টানা দুই মাস অবস্থান করেছিলেন। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই দর্শনীয় স্থানটি পরিদর্শনে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ বিদেশ থেকেও অসংখ্য পর্যটক ও তীর্থযাত্রী ছুটে আসেন। তবে দর্শনার্থীদের জন্য এখানে ন্যূনতম থাকা-খাওয়ার বা বিশ্রামের কোনো সুব্যবস্থা নেই।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন জমিদার হরিরাম দাস (মতান্তরে দুর্গাপ্রিয় দাস) এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যটি নির্মাণ করেন। মূল পিরামিড আকৃতির নবরত্ন মন্দিরের পাশাপাশি এখানে রয়েছে একটি দুর্গা মন্দির এবং একটি শিবমন্দির। স্থাপত্যটির ভেতরে রয়েছে আকর্ষণীয় অলিন্দ, মণ্ডপ ও ওপরে ওঠার প্রাচীন সিঁড়ি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের অভিযোগ, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করলেও বাস্তবে রক্ষণাবেক্ষণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। সীমানা প্রাচীর না থাকায় ঐতিহাসিক এই দেবোত্তর সম্পত্তি দিন দিন বেদখল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ক্ষয়ে যাওয়া টেরাকোটা ফলকগুলো সংস্কারের অভাবে চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে।

ঐতিহ্যবাহী এই সম্পদ রক্ষার্থে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও পর্যটকরা অবিলম্বে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ঐতিহ্যপ্রেমীদের প্রত্যাশা, যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে মন্দিরটির আদি রূপ ফিরিয়ে এনে এখানে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হোক।

১৬০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন