লোহাগড়া পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে কর্মচারীর চাকরিচ্যুত করানোর অভিযোগ
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬ ৩:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভায় দীর্ঘ ১০ বছর কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী ওসমান গণিকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সদ্য বিদায়ী পৌর প্রশাসক সুস্মিতা সাহার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু তদন্ত ও চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে বিধি মোতাবেক আপিল করার পরামর্শ দিয়েছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
ভুক্তভোগী ওসমান গণি লক্ষীপাশা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর অব্যাহতির ঘটনাকে সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ এক দশক ধরে লোহাগড়া পৌরসভায় চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনের পর গত ২৬ জুলাই ডাকযোগে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতির আদেশ পাঠানো হয়। তৎকালীন পৌর প্রশাসক সুস্মিতা সাহা এই পত্রে স্বাক্ষর করেন, যিনি বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
ওসমান গণির অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করার যে ভিত্তিহীন অপবাদ দেওয়া হয়েছে, তা হাজিরা খাতা পরীক্ষা করলেই স্পষ্ট হবে। পৌরসভার ১০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর মধ্যে ছয়জনের বেতন বাড়ানো হলেও তাঁর ক্ষেত্রে কোনো সতর্কবার্তা বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পৌরসভার প্রকৌশল শাখার এক কার্যসহকারীর সাথে পূর্ববিরোধের জের ধরে এবং পৌরসভার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য ধামাচাপা দিতেই তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তিনি এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে সাবেক পৌর প্রশাসক সুস্মিতা সাহা দাবি করেন, চুক্তিভিত্তিক যে কাউকে অব্যাহতি দেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার তাঁর ছিল। তবে নিয়ম অনুযায়ী কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নের সদুত্তর তিনি এড়িয়ে যান। অন্যদিকে, লোহাগড়া উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বর্তমান পৌর প্রশাসক এস এম মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, নীতিগতভাবে সুযোগ থাকলে সংক্ষুব্ধ কর্মচারী বিধি মোতাবেক আপিল করতে পারবেন।
১০৬ বার পড়া হয়েছে