আজ থেকে সবার জন্য খুলল জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ ৪:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর বৃহস্পতিবার থেকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। আন্দোলনের ইতিহাস, শহীদ ও আহতদের স্মৃতি, আলোকচিত্র, ভিডিও, দলিল এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত স্মারক নিয়ে সাজানো এই জাদুঘরে আপাতত প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জন দর্শনার্থী প্রবেশের সুযোগ পাবেন। উদ্বোধনের পর প্রথম দিনের টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বৃহস্পতিবার থেকে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের সুবিধা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জনকে মূল ভবনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। অনলাইনের পাশাপাশি জাদুঘরের কাউন্টার থেকেও নির্ধারিত সময়ের টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।
প্রবেশের জন্য প্রতিদিন তিনটি পৃথক সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মর্নিং স্লট, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মিড-ডে স্লট এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ইভিনিং স্লটে দর্শনার্থীরা জাদুঘরের মূল ভবর পরিদর্শন করতে পারবেন। প্রতিটি স্লটে সর্বোচ্চ ৩০০ জন করে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। টিকিটে উল্লেখিত সময়ের মধ্যেই মূল ভবনে প্রবেশ করতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
টিকিটের মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় অনুযায়ী আগে থেকেই টিকিট বুকিং করতে হবে। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী উপলব্ধ স্লট বেছে নিতে হবে।
জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব জানিয়েছেন, শুরুতেই অতিরিক্ত দর্শনার্থীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। এ কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে সময়ভিত্তিক সীমিত প্রবেশ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।
এর আগে জাদুঘরের উদ্বোধনের দিন প্রবেশকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর গেট না খোলায় উপস্থিত কিছু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে মূল ফটকে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে জাদুঘরের কোনো সম্পদের ক্ষতি না করার অনুরোধ জানান।
জাদুঘরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, ঐতিহাসিক দলিল, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী এবং ডিজিটাল প্রদর্শনী সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করতে পারেন।
৩১৩ বার পড়া হয়েছে