Latest

Health

হাম রোগীর চাপে নাজেহাল শামসুদ্দিন হাসপাতাল, এক বেডে একাধিক শিশু, বাড়ছে সংক্রমণের শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬ ২:১৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
সিলেটে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১২০ জনেরও বেশি শিশু। ফলে অনেক বেডে একাধিক রোগীকে রাখতে হচ্ছে, আর প্রাপ্তবয়স্ক স্বজনদের জায়গা হচ্ছে মেঝেতে। এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ মাস বয়সী সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে আসেন কোম্পানীগঞ্জের আশিকুর রহমান। কিন্তু হাসপাতালে কোনো খালি শয্যা না পেয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েন। তিনি বলেন, “হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, অথচ হাসপাতালে একটি সিটও খালি নেই। এখন সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।”

হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা শিশুদের এখানে ভর্তি করা হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি আরেক শিশুর অভিভাবক সুয়েবুর রহমান জানান, তার সন্তানের এখনো হাম নিশ্চিত হয়নি, শুধু উপসর্গ রয়েছে। কিন্তু একই বেডে আরেক আক্রান্ত শিশুর সঙ্গে রাখায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি বলেন, “সুস্থ হওয়ার জন্য হাসপাতালে এসেছি, কিন্তু এখানে এসে আক্রান্ত হওয়ার ভয় আরও বেশি।”

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষ রোগীতে পরিপূর্ণ। অনেক বেডে দুজন করে শিশু ভর্তি রয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনদের কারণে পুরো হাসপাতালজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভিড় ও অস্বস্তিকর পরিবেশ।

শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “রোগীর চাপ প্রতিদিনই বাড়ছে। অনেক বেডে একাধিক রোগী রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।”

এদিকে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডকে হাম রোগীদের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো চালু হয়নি। ফলে পুরো চাপ সামলাতে হচ্ছে শামসুদ্দিন হাসপাতালকেই।

এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও উপসর্গজনিত শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, নতুন করে মারা যাওয়া দুই শিশু হলো হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আকরামুল (৯ মাস) ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সাইফান (৮ মাস)। আকরামুল ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সাইফান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২২ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৬৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৮ জনই আছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।

এদিকে, সিলেটে এখনো হাম শনাক্তের জন্য ল্যাব সুবিধা না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। উপসর্গের ভিত্তিতেই অধিকাংশ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

২৫১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Health নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন