Latest

Country

সিলেটের পাথর কোয়ারি খোলার সম্ভাবনা ঘিরে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আজ

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬ ৩:৪৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো আবার চালু হবে কি না—এ সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পুরো সিলেট অঞ্চল। কোয়ারিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি, পরিবেশগত প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০৮ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। এতে আরও অংশ নিচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনারসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকরা। প্রবাসে অবস্থান করায় একজন মন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন বলেও জানা গেছে।

সভাকে ঘিরে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। বিশেষ করে দীর্ঘদিন বেকার থাকা শ্রমজীবী মানুষরা আশা করছেন, সীমিত পরিসরে হলেও কোয়ারিগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সিলেট অঞ্চলের ভোলাগঞ্জ (সাদাপাথর), জাফলং, বিছনাকান্দি, লোভাছড়া, উৎমাছড়া, শ্রীপুরসহ একাধিক পাথর কোয়ারি একসময় স্থানীয় অর্থনীতির বড় ভরসা ছিল। এসব এলাকায় হাজারো শ্রমিক সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

তবে সময়ের সঙ্গে যন্ত্রচালিত ও অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের কারণে পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়। একপর্যায়ে জাফলংকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয় এবং আদালতের নির্দেশনার পর ২০১৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে সব কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় সরকার। সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় কার্যক্রম।

কোয়ারি বন্ধ হওয়ার পর বিপুল সংখ্যক শ্রমিক, নৌযান ও পরিবহন শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। জীবিকার দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন হলেও সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসেনি।

এরপর ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কোয়ারিগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর লুটের অভিযোগও ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতারা এবং শ্রমজীবী সংগঠনগুলো সনাতন পদ্ধতিতে সীমিত আকারে কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, জীবিকা রক্ষার স্বার্থে নিয়ন্ত্রিতভাবে পাথর উত্তোলনের সুযোগ থাকা উচিত।

অন্যদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোয়ারি চালু করা হলে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে। তাদের দাবি, এসব এলাকা রক্ষা করে পর্যটন ও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবহার করা উচিত।

সব মিলিয়ে আজকের বৈঠককে ঘিরে একদিকে যেমন শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। এখন সবার দৃষ্টি ঢাকার সিদ্ধান্তের দিকে—সরকার শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়, সেটিই নির্ধারণ করবে সিলেটের পাথর কোয়ারির ভবিষ্যৎ।

২১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন