Latest

Country

হারানো চেইন সন্ধানে কবিরাজের পরামর্শে কাঠমিস্ত্রিকে ইউপি চেয়ারম্যানের নোটিশ

স্বপন মির্জা, সিরাজগঞ্জ
স্বপন মির্জা, সিরাজগঞ্জ

বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ৯:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ীপাড়া এলাকায় প্রায় দুই মাস আগে হারিয়ে যাওয়া প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের সাড়ে ৯ আনা স্বর্ণের চেইন উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি নোটিশকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক নিন্দা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত রমজান মাসের শুরুতে উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর বাজার এলাকার পল্লী চিকিৎসক দুলাল হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন এলাকায় ঘোরাফেরার সময় তার সাড়ে ৯ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন হারিয়ে ফেলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও চেইনটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে পার্শ্ববর্তী চর বড়ধন গ্রামের হাফেজ আসলাম হোসেন নামের এক কবিরাজের শরণাপন্ন হন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কবিরাজ কাগজে লেখা বিভিন্ন নামের মধ্যে থেকে লাহিড়ীপাড়ার কাঠমিস্ত্রি কাওছার আলী লাভুর ৯ বছরের শিশুপুত্র, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সৈকতের নামকে ইঙ্গিত করেন।

এরপর থেকে দুলাল হোসেন ওই পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন এবং অন্য একটি মামলায় তাদের জড়িয়ে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কাঠমিস্ত্রি লাভু জানান, কবিরাজের কথার ভিত্তিতে তার নির্দোষ সন্তানকে চোর আখ্যা দিয়ে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বারবার বলা সত্ত্বেও তারা কোনো কথা শুনছে না বলেও তিনি দাবি করেন। এতে তার শিশু সন্তান মানসিকভাবে ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

এ ঘটনার পর লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার গোপাল চন্দ্র ঘোষ গত ৪ মে লাভু পরিবারকে পরিষদে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেন। তবে লাভু পরিবারের দাবি, তারা কোনো অপরাধ করেননি এবং হারানো স্বর্ণ সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তাই তারা হাজির হননি।

অন্যদিকে পল্লী চিকিৎসক দুলাল হোসেন দাবি করেন, কবিরাজ হাফেজ আসলাম হোসেনের কথায় লাভুর সন্তান সৈকতকে চেইন কুড়িয়ে পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি নোটিশ দেন, তবে অভিযুক্তরা উপস্থিত হয়নি বলেও জানান তিনি।

কবিরাজ হাফেজ আসলাম হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, প্রথমে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি, তবে পরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাওয়ায় তিনি নিজেও বিব্রত। তিনি আরও জানান, তার কথার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, তারা কবিরাজের কথাকে বিশ্বাস করেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশের বিভিন্ন বাহিনী রয়েছে, তাই এসব ভিত্তিহীন ধারণার ওপর নির্ভর করার সুযোগ নেই। তিনি জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখার উদ্দেশ্যেই উভয় পক্ষকে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কবিরাজের কথার ভিত্তিতে কোনো পরিবারকে হয়রানি করা ঠিক হয়নি। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করতে পারেন। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন বলেও জানান।

৫০৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন