Latest

Country

মায়া হত্যা রহস্যে অচলাবস্থা: ৯ মাসেও ময়নাতদন্তের গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট আসেনি

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া
নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া

রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ ২:০৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ায় মায়া খাতুন (১৬) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ ৯ মাসেও রহস্যের জট খুলতে পারেনি তদন্ত কার্যক্রম।

ময়নাতদন্তের পর গুরুত্বপূর্ণ হিস্টোপ্যাথলজি রিপোর্ট এখনো না আসায় মামলাটি অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ভিকটিমের পরিবার বিচার পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দেওয়ার অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট সকালে কুষ্টিয়া বারো শরীফ দরবারের সামনে অজ্ঞাত এক কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। উপুড় হয়ে পড়ে থাকা লাশটি দেখে প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে এবং অপমৃত্যু মামলা (নং ৩৬০, তারিখ ৬ আগস্ট ২০২৫) রুজু করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পরবর্তীতে মর্গে এসে লাশটি শনাক্ত করেন নিহতের নানী আনজু বেগম। নিহত কিশোরীর নাম মায়া খাতুন (বয়স ১৬)।

আনজু বেগমের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তার মেয়ে শিরিনা খাতুনের সঙ্গে পাবনার আবুল কালামের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে মায়ার বয়স ছিল প্রায় ৯ বছর। পরে উভয়েই আলাদা সংসার শুরু করেন এবং মায়ার দায়িত্ব কেউ না নেওয়ায় সে নানীর কাছেই বড় হয়।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের প্রতিবেদনে কিশোরীর কপাল ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের কথা উল্লেখ করা হয়। ১০ আগস্ট কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন বরাবর প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। সেখানে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের নমুনা হিস্টোপ্যাথলজির জন্য পাঠানোর সুপারিশ করা হয়।

১৮ আগস্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। তবে দীর্ঘ ৯ মাসেও সেই হিস্টোপ্যাথলজি রিপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ ২৬ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়েও রিপোর্টের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মান্নান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে ভিসেরা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং পরবর্তী ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রহণ করে থাকে।

নিহতের নানী আনজু বেগম জানান, তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন, ফলে নাতিকে ঠিকভাবে দেখাশোনা করা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, ২০২৩ সালে মায়া কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন এলাকায় সোহেল নামের এক চা বিক্রেতার দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত সোহেলকে আটক করে আদালতে পাঠালেও পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে সে মায়াকে প্রায়ই হয়রানি ও হুমকি দিত বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আনজু বেগম আরও জানান, মায়া নিহত হওয়ার রাতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হয়েছিল।

অন্য এক স্বজন রেবেকা খাতুন দাবি করেন, কোর্ট স্টেশন এলাকার কিছু নেশাগ্রস্ত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে মায়ার পরিচয় ছিল এবং তারাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তিনি এসব ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান।

নিহতের নানীর অভিযোগ, তিনি সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তাকে জানায় রিপোর্ট আসার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থল নিয়ে বিভিন্ন সময় কানাঘুষা শোনা গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

বর্তমানে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না এবং মামলার বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারবেন।

দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় নিহত মায়ার পরিবার বিচার পাওয়ার আশা হারিয়ে ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তের গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট অনুপস্থিত থাকায় পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্বজনদের।

২৭৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন