Latest

Country

মাগুরায় ২ গ্রুপের সংঘর্ষে শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, অগ্নিসংযোগ

রূপক আইচ, মাগুরা
রূপক আইচ, মাগুরা

রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ ১২:২২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত টানা ছয় ঘণ্টা এ সংঘর্ষ চলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের নোহাটা গ্রামের বিএনপি কর্মী টিটন মোল্যা এবং আমতৈল গ্রামের স্থানীয় বিএনপি নেতা লিপটন মিয়ার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে শুক্রবার রাতে লিপটন মিয়ার সমর্থকরা আশপাশের গ্রামের লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে রফিকুল ইসলাম (৩৫), আরব আলী (৬৬), ইয়াহিয়া (২০) সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় টিটন মোল্যার সমর্থকদের মধ্যে ইদ্রিস বিশ্বাস, রশিদ মোল্যা, লেলিন মোল্যা, পল্টু মোল্যা, হাকিম শেখ, আতর শেখ, সরোয়ার শেখ, ইকবাল শেখ, সোহেল রানা, চান্দা, রাজু ও নজিরউদ্দিনের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় এবং ৫টি ছাগল নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া আনিচ শেখ, মতিন শেখ, আল-আমিন, আদিল উদ্দিন, ছমির মোল্যা, আমির মোল্যা, নুর মোহাম্মদ বিশ্বাস ও আজম বিশ্বাসের বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাটের পাশাপাশি ২টি ছাগল ও ৩টি গরু লুট করা হয়। মজিদ শেখ ও রাজু শেখের বাড়ি থেকে ৩টি গরু এবং মন্টু শেখের বাড়িঘরও ভাঙচুর-লুটপাট করা হয়।

অন্যদিকে এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে টিটন মোল্যার সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালায়। তারা রিপন খানের দোকান, সালেক খান, আতিয়ার মোল্যা, বিধবা অনু বেগম, রেন্টু খান, নুরুজ্জামান ও রাশেদ মোল্যার বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এছাড়া পান্নু বিশ্বাস, আমানত, ঈশান, মশিয়াল, আনোয়ার, শাহীন, রাশিদুল, হাসেম ও রাশেম জোয়ার্দারের বাড়িঘরে ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। দাউদ ও তার ভাই গোলাম তহুরের গোয়ালঘর ও বাড়িঘরেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। মিন্টু বিশ্বাসের বাড়িঘরও ভাঙচুর-লুটপাট করা হয়।

আমতৈল গ্রামের গোলাম তহুরের স্ত্রী নাসিমা খাতুন বলেন, তার স্বামী ও দেবর বাইরে চাকরি করেন। রাতে টিটনের লোকজন তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে।

নোহাটা গ্রামের আনিচুর রহমানের স্ত্রী লিপি বেগম বলেন, তার স্বামী রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। লিপটন মিয়ার লোকজন তাদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। এখন তিনি তিন সন্তান নিয়ে কোথায় থাকবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন এবং ঘটনার বিচার দাবি করেন।

একই গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী সালমা বেগম জানান, রাতে সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন। লিপটনের লোকজন বাড়িতে ঢুকে সবকিছু ভেঙে ফেলে এবং তার শিশুর মাটির ব্যাংকের সঞ্চিত টাকাও নিয়ে যায়। তিনি দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

শ্রীপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে যে কোনো সময় আবার বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে।

২১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন