Latest

Tourism

কুয়াকাটার ফিস ফ্রাই মার্কেট: পর্যটকদের নতুন স্বাদের গন্তব্য

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:৪১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পর্যটন নগরী ও সাগরকন্যা কুয়াকাটার অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে “ফিস ফ্রাই মার্কেট”। প্রতিদিনই এখানে শত শত পর্যটকের সমাগম ঘটে।

অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে খোলা আকাশের নিচে বসে তাজা সামুদ্রিক মাছের স্বাদ উপভোগ করেন। সূর্য ডোবার পরপরই এই ফিস ফ্রাই মার্কেটটি যেন এক ভিন্ন জগতে রূপ নেয়।

সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্ব দিকে অবস্থিত এই মার্কেটটি সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। সারি সারি দোকানে জ্বলে ওঠে রঙিন বৈদ্যুতিক বাতি। সামনে সাজানো থাকে লইট্টা, টুনা, সামুদ্রিক বেলে, লাক্কা, কোরাল, ইলিশ, রূপচাঁদা, চিংড়ি, কাঁকড়াসহ নানা ধরনের সামুদ্রিক মাছ। ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী এসব মাছ সঙ্গে সঙ্গে ভেজে বা গ্রিল করে পরিবেশন করা হয়।

এদিকে গভীর রাত পর্যন্ত পোড়া মাছের গন্ধ পর্যটকদের টেনে নিয়ে যায় বারবিকিউ জোনে। সমুদ্রের ঢেউ আর গরম গরম মাছ ভাজার ঘ্রাণ—সব মিলিয়ে এটি পর্যটকদের জন্য তৈরি করছে এক ভিন্নধর্মী স্বাদের অভিজ্ঞতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই মার্কেটে প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড়ে এটি মুখরিত থাকে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম দেখা যায়।

পর্যটকদের ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তুলছে এই পোড়া মাছের গন্ধ ও বিশেষ মসলার সংমিশ্রণে তৈরি খাবার। এক পাশে বারবিকিউর অসাধারণ আয়োজন, অন্য পাশে গান-বাজনা ও আড্ডায় সময় কাটান পর্যটকরা।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কুয়াকাটার এই ফ্রাই মার্কেট ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নাইট ফুড ডেস্টিনেশনে পরিণত হতে পারে। ইতোমধ্যেই এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মো. নুরুন্নবি জানান, বাজারের পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। তবে যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এটি আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

সিলেট থেকে আসা পর্যটক সানজিদা আক্তার বলেন, কুয়াকাটার সমুদ্র দেখার পর ফিস ফ্রাই মার্কেটে এসে খাবারের অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ। পরিবেশ, স্বাদ—সবকিছু মিলিয়ে এটি এক অনন্য অনুভূতি।

পর্যটক আরিফুর রহমান বলেন, কুয়াকাটায় এসে ফিস ফ্রাই না খেলে মনে হয় কিছু একটা মিস হয়ে যায়। সারাদিন ঘোরাঘুরির পর সন্ধ্যায় তারা ফিস ফ্রাই মার্কেটে এসে তাজা মাছ অর্ডার করেন। মাছগুলো চোখের সামনেই ভাজা হয়। পরিবারের সবাই মিলে তিনি অভিজ্ঞতাটি উপভোগ করেছেন।

হলিডে ফিস ফ্রাই-এর স্বত্বাধিকারী সাগর জানান, বাজার থেকে সবচেয়ে তাজা ও ভালো মাছ সংগ্রহ করে পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী পরিবেশন করা হয়।

কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মালিক সমিতির সভাপতি কাওছার আহমেদ বলেন, তার হাত ধরেই এই বারবিকিউ সংস্কৃতির যাত্রা শুরু হয়েছে। সন্ধ্যার পর পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগ সীমিত থাকায় তারা এখানে সময় কাটান। পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তার মতে, কুয়াকাটার বারবিকিউ এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে, যা পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)-এর সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, সমুদ্রের ঢেউ আর গরম গরম মাছ ভাজার ঘ্রাণ—সব মিলিয়ে ফিস ফ্রাই মার্কেটটি কুয়াকাটার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, এই ফিস ফ্রাই মার্কেটটি পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান। একদিকে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নেওয়া যায়, অন্যদিকে বিনোদনের সুযোগও রয়েছে। তবে পরিবেশ সুন্দর রাখা ও মূল্য নির্ধারণ সঠিকভাবে করার বিষয়ে নজরদারি রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

৫৬২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Tourism নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন