Latest

Country

গোপালগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং: জনজীবন বিপর্যস্ত, কৃষি ও ব্যবসা খাতে চরম সংকট

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ
বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:৫৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে চরম অস্থিরতা।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব জেলার অর্থনীতিতেও পড়েছে বলে জানা গেছে। বোরো মৌসুমে সেচনির্ভর জমিতে বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে।

গোপালগঞ্জ পৌর এলাকায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশনের (WZPDCL) ৩০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় প্রতি ঘণ্টা অন্তর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। ফলে দিনে ১২ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। একই ধরনের সমস্যা গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাতেও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প ব্যবহার করতে না পারায় কৃষকরা জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনভিত্তিক পেশার সঙ্গে যুক্ত তরুণরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় কাজ করতে পারছেন না, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট আরও বেড়েছে। রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

কৃষি খাতেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। সেচ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র চালু রাখা যাচ্ছে না, আর জ্বালানি সংকটের কারণে বিকল্প ব্যবস্থাও সহজ হচ্ছে না। এতে ফসল উৎপাদন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, জেলায় চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই নতুন সংকট হিসেবে যুক্ত হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু ও রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এতে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

জেলা শহরের বাসিন্দা নয়ন সাহা বলেন, “আমার মেয়ে অসুস্থ। দিনে অন্তত ১৫ বার বিদ্যুৎ যায়। গরমে আমার মেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা উচিত।”

ব্যবসায়ী অমল সাহা বলেন, “জেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে আমরা ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। ক্রেতাদের পণ্য দেখাতে পারছি না, ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।”

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, “হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে।”

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, “আমাদের গ্রাহক ৩০ হাজারেরও বেশি। তাদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে চাহিদা ১৬ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রতি ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।”

২২৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন