Latest

Health

নোয়াখালীতে হাম প্রতিরোধে ৫ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনার প্রস্তুতি সম্পন্ন

আবদুর রহিম, নোয়াখালী
আবদুর রহিম, নোয়াখালী

রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
নোয়াখালী জেলায় হাম প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ কর্মসূচির আওতায় জেলার প্রায় ৫ লাখ ৫ হাজার ৩৫০ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো নোয়াখালীতেও হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, জেলায় এখন পর্যন্ত ২৭৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো নমুনা পরীক্ষায় ৮ জনের দেহে হাম রোগ নিশ্চিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলার ৯টি উপজেলা, ৮টি পৌরসভা, ৯১টি ইউনিয়ন, ২৭৯টি ওয়ার্ড, ১ হাজার ৩৮৫টি স্কুল এবং ১ হাজার ৪৮০টি মাদরাসায় অধ্যয়নরত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই টিকার আওতায় আনা হবে। এ কাজে মাঠপর্যায়ে ২ হাজার ২৪১ জন টিকাদানকারী এবং ৪ হাজার ৪৮২ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত থাকবেন।

সিভিল সার্জন বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সময়মতো টিকা দিলে এটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো শিশুই যেন টিকার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে। জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও টিকাদান কার্যক্রম পৌঁছে দিতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সিভিল সার্জন বলেন, টিকা নিয়ে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে। ভুল ধারণার কারণে অনেক শিশু টিকাবঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পৌরসভায় টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারেও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কর্মসূচি সফল করতে প্রায় ২ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের অধিকাংশের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। এ পর্যন্ত নোয়াখালী জেলায় হাম আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
 

১৯০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Health নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন