Latest

Country

মানিকগঞ্জে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, মুড়িকাটায় লোকসান, হালিতে লাভের আশা

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ
স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৫৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটির কারণে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও মুড়িকাটা পেঁয়াজে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষীরা। তবে হালি পেঁয়াজে লাভের সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

জেলার শিবালয়, ঘিওর ও হরিরামপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে হালি পেঁয়াজ ৪ হাজার ৪৫২ হেক্টর, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৩ হাজার ৩৮৬ হেক্টর এবং বীজ পেঁয়াজ ২৯ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এসব জমি থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৮৬৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে।

জানা গেছে, মুড়িকাটা পেঁয়াজ কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে এবং হালি পেঁয়াজ পৌষ-মাঘ মাসে রোপণ করা হয়। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে প্রতি বিঘায় পেঁয়াজ চাষে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমিতে ৪০ থেকে ৫০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন সম্ভব।

চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হওয়ায় উৎপাদনও বেড়েছে। তবে জেলার ঝিটকা ও বরঙ্গাইল পাইকারি বাজারে দরপতনের কারণে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। জমি থেকে পেঁয়াজ তুলতে যে খরচ হচ্ছে, তা তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। প্রতি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকার বেশি এবং একজন শ্রমিক দিনে ৮ থেকে ১০ মণ পেঁয়াজ তুলতে পারে।

বর্তমানে সদ্য তোলা মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রতি মণ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, হালি পেঁয়াজ মানভেদে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ ৪০০ থেকে ৮০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে মুড়িকাটা পেঁয়াজে লোকসান হলেও হালি পেঁয়াজে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

বরঙ্গাইল এলাকার চাষী তারু বেপারী জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে হালি পেঁয়াজের আবাদ করেছেন এবং ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় জমি প্রস্তুত থেকে পেঁয়াজ তোলা পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্গা জমিতে চাষ করলে খরচ আরও বেশি হয়। এছাড়া পেঁয়াজ মাঠ থেকে তুলে বাজারে নিতে অতিরিক্ত প্রায় ৮ হাজার টাকা শ্রমিক ও পরিবহন খরচ লাগে। অতিরিক্ত আবাদ হওয়ায় কিছুটা দরপতন হলেও মানভেদে প্রতি মণ হালি পেঁয়াজ ৪০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

নালী এলাকার চাষী লাল মিয়া জানান, তিনি বর্গা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছেন। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে উৎপাদন খরচ ওঠানো নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বাজারে কাঁচা মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রতি মণ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা অনেক সময় জমি থেকে তুলে বাজারে আনতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এ মৌসুমে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।

বরঙ্গাইল পাইকারি বাজারের আড়তদার সেলিম মোল্লা বলেন, তাদের এই হাট দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজের বড় বাজার হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রতিটি হাটবারে শত শত মণ পেঁয়াজ ক্রয়-বিক্রয় হয়। হালি পেঁয়াজ মানভেদে প্রতি মণ ৪০০ থেকে ৮০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মুড়িকাটা পেঁয়াজ কাঁচা হওয়ায় সংরক্ষণ করা যায় না, তাই কম দামে বিক্রি করতে হয়।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, জেলায় এ বছর পেঁয়াজের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে হালি পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে এবং তা ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বর্তমানে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। হালি পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য চাষীদের মধ্যে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

২৫০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন