Latest

Country

কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে সিন্ডিকেট: অঘোষিত মূল্য নির্ধারণের অভিযোগ

আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম
আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম

রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ ৯:১৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কম দামে ওষুধ বিক্রি করতে চাওয়ায় কিছু ফার্মেসিকে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে ওষুধ কিনতে পারছেন না।

কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া এক আবেদনে জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র ওষুধের বাজারে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ করছে, অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ করছে এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর অবৈধ চাপ প্রয়োগ করছে।

আবেদনে বলা হয়, কোনো কোনো ফার্মেসি যখন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি)-এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে চাচ্ছে, তখন তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। কখনও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, কখনও ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে বাজারে কৃত্রিমভাবে মূল্য নিয়ন্ত্রণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ধরনের কর্মকাণ্ড ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৪০, ৪১ ও ৪৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ বিষয়ে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, সেনাবাহিনীর কুড়িগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ইনজামুল আলমসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়।

জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক হাফিজুর রহমান জানান, জেলায় মোট ২,২৬৫টি ফার্মেসি রয়েছে, যেগুলো ওষুধ বিক্রি করে। তার দপ্তর মূলত ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ করে, মূল্য নির্ধারণ করে না। তবে কুড়িগ্রাম শহর ও উলিপুরে দাম নিয়ে অভিযোগ আছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

কুড়িগ্রাম জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির আহ্বায়ক আতাউর রহমান হেরিক বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো থেকে সীমিত হারে ছাড় পাওয়া যায়। কম দামে বিক্রি করলে দোকান পরিচালনার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে, তাই ব্যবসায়ীদের এমআরপি অনুযায়ী বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ সাদী জানান, এমআরপি সর্বোচ্চ মূল্যসীমা, যার বেশি নেওয়া যাবে না। তবে কম দামে বিক্রিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। যদি কেউ এ ক্ষেত্রে বাধা দেয়, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাধারণ ক্রেতারা জানান, একই ওষুধ ভিন্ন দামে বিক্রি হওয়ায় তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অনেক সময় কম দামে কিনতে গেলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কুড়িগ্রামের ওষুধ বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে এবং ভোক্তাদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।

২৮১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন