Latest

Country

নরসিংদীতে কিশোরী আমেনা ধর্ষণ ও হত্যা: সৎ পিতার চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি

শামীম মিয়া, নরসিংদী
শামীম মিয়া, নরসিংদী

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬ ২:৫৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
নরসিংদীতে আলোচিত কিশোরী আমেনা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে সৎ পিতা আশরাফ আলী।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমেনার সৎ বাবাসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুলাহ আল-ফারুক।

এর আগে (৬ মার্চ) বৃহস্পতিবার বিকেলে নরসিংদীর মাধবদী থেকে সন্দেহের তালিকায় থাকা সৎ পিতা আশরাফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের সৎ মেয়েকে একাই গলায় উড়না পেচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে এবং ধর্ষক নূর মোহাম্মদ নূরাসহ অন্যান্যদের ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়ে মিথ্যা নাটকের কথা জানায়।

পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক আরো জানায়, ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূল আসামী নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) আমেনার সাথে পূর্ব হতে প্রেমের সম্পর্ক থাকার সূত্র ধরে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত ছিল। অপরদিকে আসামী হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার আমেনা হত্যাকান্ডের ১৫ দিন পূর্বে হযরত আলীর কোতালিরচরের নিজ বাড়িতে দলবদ্ধভাবে আমেনাকে ধর্ষণ করে।

সৎ পিতা আশরাফ আলী আদালতে ১৬৪ ধারা জমাবন্দীতে বলেন, আশরাফ আলী (৪৫) তার সৎ মেয়ে আমেনাকে সাথে নিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সুমন নামে এক সহকর্মীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে পথিমধ্যে একটি সরিষা ক্ষেতে আমেনা সামনের দিকে হাটতেছিল, এসময় পিছন দিক থেকে আশরাফ উড়না দিয়ে আমেনার গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ওই উড়না দিয়েই আমেনার দু’হাত পিছনদিকে বেধে রাখে।

পরে সে ঘটনাস্থল থেকে চলে এসে তার পরিবারকে জানায় নূরা এবং অন্যান্যরা তার কাছ থেকে আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় নিজেকে বাঁচাতে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নূরাসহ অন্যান্যদের উপর আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার দায় চাপানোর মিথ্যা নাটক সাজায়। আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলীর কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় ও আসামীদের জবানবন্দির ফলে তাকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়।

ইতিপূর্বে ধর্ষণে জড়িত প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা, এবাদুল্লাহ, হযরত আলী ও গাফফার এবং ধর্ষণের ঘটনায় শালিশ দরবার করে আমেনার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগে আহম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহম্মদ দেওয়ান, তার ছেলে মোঃ ইমরান দেওয়ান, প্রতিবেশী মোঃ আইয়ুব ও ইছহাক ওরফে ইছাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের প্রত্যেককে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তারা সবাই বর্তমানে ৮ দিনের রিমান্ডে রয়েছে।

আশরাফ জবানবন্দিতে আরো উল্লেখ করেন, ১০ ফেব্রুয়ারী নূর মোহাম্মদ নূরাসহ একাধিক আসামী আমেনাকে গণধর্ষণ করে। এরই প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাবেক মেম্বারের বিচার কার্য, তাদের এলাকা ছেড়ে দিতে বলা ও আমেনার বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেয় প্রতিপন্ন হওয়াসহ নানা কারণেই সৎ মেয়ের উপর ক্ষিপ্ত হওয়ার কথা জানায় আশরাফ আলী। পরবর্তীতে মেয়েকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পারলে অপমান থেকে মুক্তি পাবার আশায় মেয়েটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

হত্যার দায় স্বীকার করা আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার মোয়াকুড়া এলাকার কুব্বাত আলীর ছেলে। সাত মাস পূর্বে আমেনা মাকে বিয়ে করে আশরাফ। তিনি বর্তমানে নরসিংদীর মাধবদীর কোতয়ালীরচর দড়িকান্দি এলাকার মতির বাড়ীতে স্বপরিবারে ভাড়ায় বসবাস করে ও রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো।

উল্লেখ্য, ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা খেত থেকে আমেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় আমেনার সৎ বাবা জানায় বুধবার রাতে বখাটে চক্রটি তরুণী আমেনাকে তার বাবার সামনে থেকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে।

পরে নিহত আমেনার মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে নূরাকে প্রধান করে ৯ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। আলোচিত এই ঘটনায় নূরাসহ মোট ৮ আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পহেলা মার্চ ৭ আসামীকে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে বাবার উপর নজরদারি করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের পর মেলে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

২০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন