Latest

Country

স্বপ্নে ভাসছে কুমারখালী

পেঁয়াজ চাষে ১৬ কোটি টাকার বাণিজ্য আশা চাষীদের

হাবীব চৌহান, কুষ্টিয়া
হাবীব চৌহান, কুষ্টিয়া

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬ ৭:৫৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সকালের নরম রোদে দূর থেকে দেখলে মনে হয় সাদা ফুলের মেলা বসেছে। কাছে গেলে বোঝা যায়- সেগুলো পেঁয়াজের ফুল।

আর সেই ফুলই কিছুদিন পর রূপ নেবে ছোট ছোট কালো বীজে। স্থানীয় কৃষকদের কাছে যা “কালো সোনা” নামে পরিচিত।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন পেঁয়াজ বীজের সবুজ সমারোহ। কৃষকেরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ২২০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ হয়েছে। উৎপাদন ভালো হলে এখান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
গত কয়েক বছরে কুমারখালীতে পেঁয়াজ বীজ চাষের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। ভালো দাম ও অধিক লাভের আশায় অনেক কৃষক ধান বা অন্যান্য ফসলের বদলে এখন পেঁয়াজ বীজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলার জগন্নাথপুর, চাপড়া, যদুবয়রা, শিলাইদহসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে এ চাষ হচ্ছে। মাঠজুড়ে সাদা ফুলের গুচ্ছ যেন নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কৃষকেরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষে প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

মান ও জাতভেদে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বীজের দাম ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ কারণে অনেক কৃষক ঝুঁকি জেনেও এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
বর্তমানে এখানে সুপার কিং, লাল তীর, হাইব্রিড, হিমাশকেল ও সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন হচ্ছে।

উপজেলার বিলকাটিয়া গ্রামের কৃষক সাহিন হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১৭ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ বিঘা জমিতে লাল তীর কিং হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ বীজের কদম করেছেন। তিনি বলেন, “পেঁয়াজ বীজ চাষ একটু ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভও অনেক বেশি। এ বছর ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।”

একই উপজেলার মহেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আবু তালেব বলেন, আমি এবার ৩৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেছি। অন্য ফসলের তুলনায় এই চাষে লাভ বেশি হওয়ায় এখন অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করছেন।

কৃষকদের উৎসাহিত করতে নানা ধরনের সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। বিশেষ করে পেঁয়াজ ফুলে হাত দিয়ে পরাগায়ণ করার কৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, কৃষিতে নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পেঁয়াজ বীজ চাষে কৃষকেরা লাভবান হলে এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

সব মিলিয়ে কুমারখালীর মাঠজুড়ে এখন এক নতুন স্বপ্নের চাষ। সাদা ফুলের গুচ্ছ ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে ছোট ছোট কালো বীজে—যা কৃষকদের কাছে শুধু ফসল নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতীক।

৩৮৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন