Latest

National

ভোটের আগে সীমান্তের ৩০ পথে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র, বাড়ছে উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২:৫৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
নির্বাচন সামনে রেখে দেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ–ভারত ও বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ব্যবহার করে দেশে অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে। এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকায় দুটি বিদেশি পিস্তল ও ২১ রাউন্ড গুলিসহ মো. আজগর আলী ওরফে ভোলা (৫৫) নামের এক অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ভারতের সীমান্ত থেকে যশোরের বেনাপোল হয়ে এসব অস্ত্র দেশে আনা হয়েছিল বিক্রির জন্য। এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনাকষা সীমান্ত দিয়ে আসা একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ রয়েল হাসান নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিজিবি, পুলিশ ও র‍্যাব সূত্র জানায়, সীমান্তের এসব পয়েন্ট দিয়ে অস্ত্র এনে প্রথমে স্থানীয় চোরাকারবারিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগীর হাত ঘুরে এসব অস্ত্র অসাধু রাজনৈতিক নেতা, সন্ত্রাসী, উগ্রপন্থী, ডাকাত ও ভূমিদস্যুদের হাতে পৌঁছে যায়। সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেটের একাধিক এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অরক্ষিত স্থলসীমান্তের পাশাপাশি মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকার মাধ্যমেও অবৈধ অস্ত্র পাচার হচ্ছে। অনেক সময় বড় চালান নিরাপদে পার করার কৌশল হিসেবে ছোট চালান ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় থানা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া ৫ হাজার ৮১৭টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে এখনো ১ হাজার ৩৬২টি উদ্ধার হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অস্ত্র আইনে ২ হাজার ৩৯৩টি মামলা হলেও অবৈধ অস্ত্র পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাহিনীর সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, সীমান্ত থেকে দেশের ভেতরের আট কিলোমিটার এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন সময়ে অস্ত্রের চালান উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, সীমান্ত পুরোপুরি সুরক্ষিত করা না গেলে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়বে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামানের মতে, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

এ অবস্থায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র ঠেকাতে সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

৫৪১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
National নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন