Latest

Country

নরসিংদীর রায়পুরায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রের মৃত্যু, আহত ১০

শামীম মিয়া, নরসিংদী
শামীম মিয়া, নরসিংদী

বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৬:৫৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে।

একই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান।

নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে আহতরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, উপজেলার চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীগত বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও একাধিক সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পাশাপাশি বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। এলাকায় এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন এরশাদ মিয়া।

এই বিরোধের জেরে বুধবার ভোরে বালুরচর গ্রামের এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়নার ছোড়া গুলিতে শিক্ষার্থী মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এছাড়া আগুনে চারটি ঘর পুড়ে যায়।

নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, সকালে তার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না তাকে গুলি করে। তিনি বলেন, 'আমরা কোনো দলের নই। যারা আমার বুক খালি করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।'

এদিকে সায়দাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায়ই তাদের গ্রামে অভিযান চালায় এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রাম প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন বালুচর গ্রাম থেকে এসে ভোরে হামলা চালায়। তাদের দাবি, উভয় গ্রামেই সমানভাবে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হলে এমন ঘটনা ঘটত না।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, গুলিবিদ্ধ মুস্তাকিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায় এবং গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে।

রায়পুরা থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান বলেন, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছে। আহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

২৫২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন