Latest

Country

১৭ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশায় স্থবির জনজীবন

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬ ৩:০৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
নতুন বছরের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। বৃহস্পতিবার দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই শীতের প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত বুলেটিন অনুযায়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। একই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনে সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। তবে কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে—৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী ও গোপালগঞ্জে তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গোপালগঞ্জে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডায় রাস্তাঘাটে লোকজনের চলাচল কমে গেছে, স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষক ও ছিন্নমূল মানুষ। গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ এবং কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা নেমে আসে ৩০০ মিটারে।

শীতজনিত রোগেও ভুগছেন অনেকে। গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস জানান, নিউমোনিয়া, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে, যদিও এখনো হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপ দেখা যায়নি।

কিশোরগঞ্জে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে দিনমজুররা কাজ হারাচ্ছেন। শহরের আখড়াবাজার শ্রমের হাটে অর্ধশতাধিক শ্রমিক কাজের অপেক্ষায় থাকলেও কাউকে কাজে নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে কৃষি খাতেও শীতের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, উঁচু এলাকার বোরো ধানের নতুন বীজতলা শীতজনিত ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

রংপুর বিভাগে টানা কয়েক দিন পর সূর্যের দেখা মিললেও শীতের দুর্ভোগ কমেনি। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও ছিন্নমূলরা।

এদিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে টানা পাঁচ দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সূর্যের দেখা না মেলায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দিনমজুর পরিবারগুলো পড়েছে চরম বিপাকে।

শীত মোকাবিলায় প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন জেলায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরাদ্দ অনুযায়ী সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী শনিবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৫ জানুয়ারির পর আবারও শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা রয়েছে।

৩১৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
Country নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন