Latest

National

৫৫তম মহান বিজয় দিবস আজ : বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশা জাতির

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৭:১৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
আজ ১৬ ডিসেম্বর, ৫৫তম মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাঙালি জাতি অর্জন করে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা এবং লাল-সবুজের পতাকা।

এবারের বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে এক ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে এবারের বিজয় দিবস গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্র সংস্কার ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের ত্যাগের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে এই বিজয়।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিবসের সূচনা হবে প্রত্যুষে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে। জাতীয় ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার, কূটনৈতিক মিশন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানাবেন।

বেলা ১১টা থেকে ঢাকার তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে তিন বাহিনীর অংশগ্রহণে ফ্লাইপাস্ট ও বিশেষ ব্যান্ডশো অনুষ্ঠিত হবে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫৪ জন প্যারাট্রুপারের পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে, যা বিশ্ব রেকর্ড গড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী আয়োজন
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী বিজয়মেলা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় সংগীত, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় দিবসের বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করবেন শিল্পীরা।

এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। বিকেলে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেবেন রাষ্ট্রপতি।

দেশের হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও সংশোধনাগারগুলোতে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন থাকবে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচি
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আলাদা কর্মসূচি পালন করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করছে।

মহান বিজয় দিবস বাঙালি জাতির গৌরব, আত্মত্যাগ ও ঐক্যের প্রতীক। এই দিনে নতুন করে শপথ নেওয়া হয়- স্বাধীনতার চেতনায় একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার।

২৭৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
National নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন