টানা বর্ষণে ডুবলো ফেনী শহর, মুহুরী নদীতে ধস
মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫ ৮:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফেনীতে চলতি বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভাবে শহরের অধিকাংশ সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে।
জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল। অন্যদিকে, ফুলগাজীতে পাহাড়ি ঢলের কারণে মুহুরী নদীর পাড় ভেঙে দুটি দোকান নদীতে বিলীন হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ফেনীতে ৩৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ। ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, "আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।"
শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক, কলেজ রোড, কলাবাগান, হাসপাতাল মোড়, একাডেমি এলাকা, রামপুর শাহীন একাডেমি, নাজির রোড, পাঠানবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহীদুল্লা কায়সার সড়কে দেখা যায়, কেউ হাঁটুপানিতে, কেউ কোমরসমান পানিতে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
ফেনী কলেজের শিক্ষার্থী রাইসা আক্তার বলেন, "পরীক্ষা থাকায় ভিজেই কলেজে যাচ্ছি। রাস্তা পুরো পানিতে তলিয়ে আছে।"
রিকশাচালক আবদুল জব্বার বলেন, "এই পানিতে রিকশা চালানো অনেক কষ্টের, দুর্ঘটনার ভয়ও আছে।"
ফুলগাজী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, পাহাড়ি ঢলের পানির চাপ বাড়ায় মুহুরী নদীর পাড় ভেঙে দুটি দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একইসঙ্গে ফুলগাজী-রাজেশপুর আঞ্চলিক সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ফেনী পৌরসভার প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার কর্মীরা কাজ করছে। যত দ্রুত সম্ভব পানি অপসারণের চেষ্টা চলছে।”
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, "মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি বেড়েছে, তবে এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। উজানে বৃষ্টি বাড়লে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে, আমরা সতর্ক আছি।"
১৪৮ বার পড়া হয়েছে